ঢাকা, শুক্রবার, ২১ পৌষ ১৪১৯, ২১ সফর ১৪৩৪, ৪ জানুয়ারি ২০১৩

সিডরের ৫ বছরেও দণি উপকূলের বরগুনা জেলার তিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্র্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি

শাহ্ আলী, বরগুনা থেকে : ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর। প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর ৫ বছরেও দণি উপকূলের বরগুনা জেলার তিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে, এই অঞ্চলের দশ লাখ লোকের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় জেলার অগণিত মানুষের জীবন -জীবিকা অরতি হয়ে পড়েছে। যেসব বাঁধ বর্তমানে আছে সেগুলোও খুব নাজুক হওয়ায় তা বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর উপযোগী নয়। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জেয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক তি হয়। তিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংষ্কার ও নির্মাণ না হলে কৃষিনির্ভর এ জেলার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পরবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

১৪ নভেম্বর ২০০৭ রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে প্রচণ্ড বেগে উপকূলে আঘাত হানে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর। মাত্র ঘন্টার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় উপকুল। তিগ্রস্ত অপোকৃত নিচু বাঁধ উপচে ও তিগ্রস্ত বেরীবাঁধ ভেঙে প্রবল তোড়ে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহূর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্তূপে। নতুন করে নলটোনার নিশান বাড়িয়ায় তৈরি হলো একাধিক গণকবর । সরকারি তথ্য অনুযায়ী সিডরের আঘাতে বরগুনায় প্রাণ হারায় এক হাজার ৫০১ জন মানুষ। গৃহহীন হয়ে পরে জেলার ৮৯হাজার ৭৮৫টি পরিবার। সিডরে এত বেশি য়তির মূল কারণ ছিল বাঁধ ভাঙা প্লাবন।

বরগুনা পাউবো প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্যমতে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে জেলার ২২টি পোল্ডারের ৮৫০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার স¤পূর্ণ এবং ৩৯৬ কিলোমিটার বাধ তিগ্রস্ত হয়। সিডরের পর কিছু স্থানে মেরামত করা হলেও বর্তমানে প্রায় ১০০ কি. মি. বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংষ্কার হওয়া বাঁধের উচ্চতা কম হওয়ায় এসব স্থান থেকে জোয়ারের পানি উপচে বার বার লোকালয় প্লাবিত হয়। এতে একদিকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অন্যদিকে কৃষি ও মৎস্য নির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কেননা অধিকাংশ এলাকায় বাঁধ না থাকায় অহরহ জোয়ারের লবণ পানি ঢুকে ফসল ও অন্যান্য সবকিছু নষ্ট করে দিচ্ছে।

মূলত নাজুক বেরীবাঁধের কারণে সিডরে এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের ব্যাপক তি সাধিত হয়েছে। দীর্ঘদিনেও নতুন বাঁধ দেয়া ও তিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করায় বার বার ফসল তিগ্রস্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন উপকূলীয় কৃষি ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা গুলো।

বরগুনা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দীন আহমেদ জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় দীর্ঘদিনেও তিগ্রস্ত বাঁধ সংষ্কার ও নির্মাণ সম্ভব হয়নি, বার বার প্রাক্কলন তৈরি করে দিয়ে পাঠানোর পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সারা মিলছে না ।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com