ঢাকা শুক্রবার ১৯ ফাল্গুন ১৪১৮, ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩, ২ মার্চ ২০১২

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ

সোনার বাংলা ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ বলেছেন, আমরা ভারতের ভূখণ্ড ও শতকোটি মানুষের বিরুদ্ধে নই, আমরা ভারত সরকারের ভ্রান্তনীতির বিরুদ্ধে কথা বলি। তারা ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের একটি পাঁজর নষ্ট করে দিয়েছে আবার টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে আরেকটি পাঁজর নষ্ট করে দিতে চায়। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। আর তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেনাবাহিনী ছাড়া দেশের স্বাধীনতা রক্ষা হবে না।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এটিএম মাসুম। আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, মহানগরী নেতা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

প্রধান অতিথি নাজির আহমদ শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের জন্য দোয়া করেন এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত মূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এখন কারো নিরাপত্তা নেই, মানুষ চায় এ সরকার দ্রুত বিদায় হোক। আগামী ১২ মার্চ এ সরকারকে বিদায় সংবর্ধনা জানানোর জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

নাজির আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন মূল্যবান সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য একটি বে-সামরিক ও একটি সামরিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কিন্ত এ কমিটির রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়নি। এ ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে এখনো তা চিহ্নিত করা হয়নি। যারা বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে চায় না, এ ঘটনার পেছনে তাদেরই হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের জন্য দোয়া করেন এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত মূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় দুর্যোগে সেনাবাহিনী কাজ করতে পারে। কিন্তু কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে আনার বিরোধিতা করেন। কারণ সেনাবাহিনী থাকলে পেশিশক্তি ব্যবহার করা যাবে না। তারা আবার এ কথাও বলেন, ‘বাংলাদেশের চারদিকে ভারতের মতো বন্ধু থাকলে সেনাবাহিনীর দরকার কী? মনে রাখা উচিত বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন হয়। আর বন্ধু সবসময় বন্ধু থাকে না।

নাজির আহমদ বলেন, আমরা বিরোধী দল সরকারের শত্রু নই। সরকারের প্রতিপক্ষ। সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক আচরণ আশা করি। উদারতা থাকলে তারা ১৬ কোটি মানুষের সরকার হতো পারতো। জামায়াতকে নির্মূল করার স্বপ্ন না দেখে জামায়াতের সরকার হওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এটিএম মাসুম বলেন, পিলখানা ঘটনার পর আরো অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মামলা হামলার মাধ্যমে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। জনগণের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। জেল খানার ভেতরে যে অধিকার রয়েছে, বাইরে জনগণ তাও পাচ্ছে না। সারাদেশ এখন জেলখানায় পরিণত হয়েছে। দেশের অবস্থা সংকটের দিকে যাচ্ছে। সরকার সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ। সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন ব্লেইম গেম চলছে। এ ঘটনা নিয়ে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির রিপোর্টও প্রকাশ করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করে এ ঘটনার মূল নায়কদের গ্রেফতার করতে হবে। আগামী সরকারের এক নাম্বার দায়িত্ব হবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার করা। তিনি ছেড়ে দেয়া ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ট্রাইব্যুনালেই সাগর-রুনি হত্যার বিচার হবে। ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে সকলকে গণঅভ্যুত্থান করার জন্য আহ্বান জানান।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জনগণ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল নায়কদের বিচার চায়। আওয়ামী লীগ নতুন ঘটনার জন্ম দিয়ে পুরনো ঘটনা ধামাচাপা দিতে চায়। আবার নতুন কোন ঘটনার মাধ্যমে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়া হবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে আর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে দেশপ্রেমিকদের হত্যা করতে চায়। জনগণ তা কখনো হতে দেবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন জনগণের মধ্যে রয়েছে। সশস্ত্র বিদ্রোহ হলে তা দমনে সশস্ত্র ব্যবস্থা নিতে হয়। কিন্তু কেন সশস্ত্র ব্যবস্থা না নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেয়া হলো? এক ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনী অভিযানের জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কেন তাদের অভিযানের অনুমতি দেয়া হলো না? বিদ্রোহীদের সাথে কেন বৈঠক করা হলো? এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কেন প্রকাশ হলো না। এ সবের  জবাব প্রধানমন্ত্রী দিতে ব্যর্থ। ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি বিএনপি জামায়াতকে দায়ী করে মিথ্যাচার করছে। সরকারের পতন ছাড়া এ ঘটনার বিচার হবে না।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com