সংবাদ শিরোনামঃ

সমুদ্রে এগিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ ** পরবর্তীতে বলবৎ আইন দিয়ে পূর্বে সংঘটিত অপরাধের বিচার করা যায় না ** সরকার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে ** উপদেষ্টারা সরকার ও দলসহ দেশকে ডুবাতে বসলেও হাসিনার বোধোদয় হচ্ছে না ** বাংলাদেশের ১৭শ’ একর জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ** ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ ** ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে...’ ** মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা চলছে লুটপাট ** সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে উপকূলীয় গাছ সাবাড় করার অভিযোগ ** সরকার বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী মতবাদ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে ** চবি সভাপতিসহ ৮ নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশব্যাপী শিবিরের বিক্ষোভ ** দেশ সন্ত্রাস রাজনীতি ** ভারতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংশিবির **

ঢাকা শুক্রবার ৯ চৈত্র ১৪১৮, ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৩, ২৩ মার্চ ২০১২

কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান বলে একটা কথা রয়েছে। সে কথাটারই বাস্তবায়ন দেখা গেলো জাতীয় সংসদের গত ১৮ মার্চের অধিবেশনে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এতদিন যথেচ্ছভাবে চালিয়ে এসেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী মহাজোটের মন্ত্রী-এমপিরা। সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করাসহ যা ইচ্ছা তা তো করেছেনই, বলেছেনও তারা সীমা ছাড়িয়েই। বিরোধী দলকে তুলাধুনা করার ব্যাপারে তাদের কেউ কেউ অসংসদীয়, এমনকি অশ্লীল বাক্যের ব্যবহারেও দ্বিধাহীন থেকেছেন। এই একটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বরাবর অগ্রবর্তী থেকেছেন। প্রাসঙ্গিকতা থাকুক না থাকুক বহুবার তিনি বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে টেনে এনেছেন। তার দুই ছেলেকে নিয়ে বিষোদ্গার করেছেন। সব মিলিয়েই নবম জাতীয় সংসদকে তারা আওয়ামী সংসদে পরিণত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটার শুরু হয়েছে গত ১৮ মার্চ। ২০১১ সালের ১৫ মার্চের পর অধিবেশনে যোগ দিয়েই সেদিন বিরোধী দল আলোড়ন তুলেছে। একটি একটি করে প্রসঙ্গ টেনে এনে কষে জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলের এমপিরা।

বিএনপির এমপি রেহানা আক্তার রানু তো রীতিমতো মাতিয়েই তুলেছিলেন। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, পাকিস্তান ও ভারতের হাই ভোল্টেজ ক্রিকেট ম্যাচও সেদিন পাত্তা পায়নি। খেলা বাদ দিয়ে দর্শকরা সবাই টিভির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন এমপি রানুর বক্তৃতা শুনতে। বলেছেনও তিনি যথেষ্ট জোরালো ভাষাতেই। শেয়ারবাজারের লুণ্ঠন থেকে ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কানাডায় শত কোটির অংকের ডলার পাচার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং পণ্যমূল্য পর্যন্ত কোনো কিছুই বাদ যায়নি। উচ্চ আদালতকে আওয়ামীকরণের অভিযোগও তিনি তথ্য-প্রমাণ দিয়েই তুলে ধরেছেন। সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের যে প্রতিক্রিয়া ক্ষমতাসীনরা ব্যক্ত করেছেন তার জবাবেও চপেটাঘাত করেছেন তিনি। প্রতিটি সমস্যা প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা করেছেন সরকারের। দু-একটি বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের মনে জ্বালাও ধরিয়েছেন এমপি রানু। যেমন বলেছেন, ১৯৯১-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের পায়ে ধরে সালাম করেছিলেন। তখন জামায়াতের কোনো দোষ ছিল না। জামায়াত যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকে তখন ‘সঙ্গী’ হয় আর বিএনপির সঙ্গে গেলে একই জামায়াত হয়ে যায় ‘জঙ্গি’! একজন চাকরিজীবীর ছেলে হয়েও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় কিভাবে শত শত কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন সে প্রশ্ন যেমন তুলেছেন তেমনি আবার এ তথ্যও ফাঁস করে দিয়েছেন যে, জয় যুক্তরাষ্ট্রে একাধিকবার অপরাধ করে গ্রেফতার হয়েছেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন।

বিএনপির এই এমপি তাই বলে স্বচ্ছন্দে বক্তৃতা করতে পারেননি। আওয়ামী লীগের এমপিরা তাকে প্রতিটি কথার পিঠেই বাধা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আবার বাপ্পি নামের এক মহিলা এমপি বারবার ‘চুপ’ বলে ধমক দিয়েছেন। এর যুৎসই জবাব দিয়েছেন বিএনপির এমপি শাম্মি। তিনি বাপ্পিকেই উল্টো চুপ থাকতে বলেছিলেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়েছিল। পরে উভয় দলের কয়েকজন সিনিয়র এমপির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারেনি। এদিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমপি রানুর বক্তব্যে নাকি তথাকথিত ‘অশালীন’ কিছু শব্দ বা কথা ছিল। কিন্তু জনগণের সচেতন অংশ বলেছেন, এমপি রানু আসলে ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ প্রবাদটিকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কারণ, ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন দু’চারজন রয়েছেন যাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবে এ ধরনের পাল্টা আক্রমণ চালানো ছাড়া উপায় থাকে না। তারা ভদ্র ভাষায় যেমন বলেন না, তেমনি বোঝেনও না ভদ্র ভাষার কথা। এখানে একটি বিশেষ তথ্য স্মরণ করা দরকার। আওয়ামী লীগের লোকজন এমপি রানুর বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ ভাষা ও শব্দে ‘খিস্তিখেউড়’ করার অভিযোগে পাড়া মাতাতে চাইলেও মাননীয় স্পিকার কিন্তু তার মাত্র দুটি শব্দকে ‘অসংসদীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে এক্সপাঞ্জ করেছেন। শব্দ দুটি ছিল ‘বুড়ি’ এবং ‘শয়তান’। শব্দ দুটি তিনি কাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন সেটা একটি প্রশ্ন বটে তবে এমপি রানুর সম্পূর্ণ বক্তৃতাকে ‘অশালীন’ বা ‘খিস্তিখেউড়’ বলার সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীনরা ক্ষিপ্ত হলেও এমপি রানু সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কারণ, যতোই অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, তার দুটি শব্দ ছাড়া তার পুরো বক্তৃতাই ছিল সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যথাযথ।

এমপি রানুর অনেক কথা নিয়েই জোর আলোচনা চলছে। আলোচিত হচ্ছে বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রসঙ্গ। বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারেও এমপি রানু কোনো মহাদোষ করে ফেলেননি। কারণ, জয় কার ছেলে বা মেয়ের জামাই সেটা বড় কথা নয়। তার প্রধান পরিচয়, তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। সে অর্থে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীই অপরাধ করে যুক্তরাষ্ট্রে জেল খেটেছেন। এ ভারি লজ্জার কথাই বটে। এমপি রানুও সে কথাটাই বলেছেন। ফলে রাজনৈতিক অর্থে কোনো দোষই করেননি তিনি। এমপি রানু বরং দিন তারিখ ধরে ধরে উল্লেখ করেছেন, কবে ঢাকায়, টেক্সাসে এবং ভার্জিনিয়ায় জয় কোন অপরাধে গ্রেফতার হয়ে কতদিন জেল খেটেছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই মানিলন্ডারিংসহ কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ তুলে চলেছেন। বলা হচ্ছে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিন বছরেও যেহেতু কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেননি সেহেতু প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে খ্যান্ত দেয়া। না হলে জয়কে ধরে টানাটানি আরো বাড়তেই থাকবে। আর জয়ের সমস্যা হলো, তিনি যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং জেল খেটেছেন সে তো প্রমাণিত সত্য!

অন্যদিকে এমপি রানুকে তুলাধুনা করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দু-একজন যে ভাষা ব্যবহার করেছেন সেগুলোও কিন্তু উল্টো খিস্তিখেউড় হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্র দীপু মনি বলে বসেছেন, এমপি রানু নাকি এমন ভাষায় বলেছেন যে ভাষা নাকি নিষিদ্ধ পল্লীতেও চলে না! নিষিদ্ধ পল্লীর বাসিন্দাদের প্রতিও জবরই মোহাব্বত দেখিয়েছেন দীপু মনি। বলেছেন, কথাটা বললেও এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ পল্লীর বাসিন্দাদের তিনি ‘অবমাননা’ করতে চান না। প্রশ্ন উঠেছে, ওগুলো যে নিষিদ্ধ পল্লীরই ভাষা সেকথাই বা দীপু মনি জানলেন কি করে? এ ব্যাপারে পরদিন, ১৯ জানুয়ারি দুর্দান্ত কিছু কথা শুনিয়েছেন বিএনপির আরেক এমপি আসিফা আশরাফি পাপিয়া। তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা কেবল তাদেরই জানার কথা যারা নিষিদ্ধ পল্লীতে বসবাস করে কিংবা নিষিদ্ধ পল্লীতে যাদের যাতায়াত রয়েছে। কথাটার মধ্য দিয়ে এমপি পাপিয়া সরাসরি দীপু মনিকেই পাকড়াও করেছেন।

তার ইঙ্গিতে ও উদ্দেশ্যে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না। এখানে লক্ষণীয় ছিল দীপু মনির তথা ক্ষমতাসীনদের মনোভাব। সংসদে কেমন ভাষায় কথা বলা উচিতÑ এ বিষয়ে ‘জ্ঞান’ দিতে গিয়ে দীপু মনি নিজেই উল্টো ‘ফাউল’ করে বসেছেন। না তিনি নিষিদ্ধ পল্লীর উদাহরণ টেনে আনেন, না তাকে সরাসরি ‘বোল্ড আউট’ হতে হয়। পর্যবেক্ষকরা অবশ্য দীপু মনির মতো সংসদে মাত্র সেদিন আগতদের খুব একটা দোষ দেয়ার পক্ষে নন। কারণ, এই শিক্ষা তারা তাদের নেত্রীর কাছ থেকে পেয়েছেন। সংসদের বাইরে তো বটেই, সংসদের ভেতরেও বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া ও তার ছেলেদের নিয়ে এমন অনেক ব্যঙ্গ-তামাশাই করেছেন যেগুলোর দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার জন্য বিএনপির রানুর মতো অন্তত ডজন খানেক এমপি দরকার।

এভাবেই হঠাৎ সেদিন জমে উঠেছিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন। উত্তেজনা ছিল পরদিন ১৯ মার্চও। বিএনপির দুই এমপি রানু ও পাপিয়া অন্তত একটি কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন। কথাটা হলো, ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। অন্য একটি কথাও হাড়ে হাড়ে টের পেতে হয়েছে ক্ষমতাসীনদের। ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ বলে দেশে যে প্রবাদটি রয়েছে তার অর্থ তাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও জানান দিয়েছেন। ২০ মার্চ এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে তিনি আওয়ামী লীগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। প্রকাশিত বিভিন্ন খবর ও তথ্যের উল্লেখ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, আওয়ামী লীগ আসলেও একটি সন্ত্রাসী দল। দলটি ক্ষমতায় থাকার সময় তো বটেই, বিরোধী দলে থাকার সময়ও হত্যা-সন্ত্রাসকেই কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। বেগম জিয়া তাই বলে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেননি, উস্কানিও দেননি। তিনি বরং সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, যদি সরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে কোনো ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছেন, হাজার ধুলেও কয়লার আসলেই ময়লা যায় না। এমন মন্তব্যের কারণ, প্রধানমন্ত্রী সাধারণত কম যান না বরং আগ বাড়িয়ে পা বাড়িয়ে থাকেন। সেদিনও তিনি যথেষ্টই শুনিয়েছেন। এসবের মধ্যে তার দুঃখ করাটা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার ছেলে-মেয়েদের সম্পর্কে ‘অসত্য ও আজেবাজে মন্তব্য’ এবং একজন এমপির ‘অশালীন ও অশোভন বক্তব্য’ ছিল এই দুঃখের কারণ। সংসদ সদস্য হিসেবে জাতির কাছে দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি তিনি নিজের এবং বোন রেহানার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও বিভিন্ন ডিগ্রির ফিরিস্তি দিয়েছেন। এদের মধ্যে কে হার্ভার্ড থেকে মাস্টার্স করেছেন, কে আবার ডাবল মাস্টার্স করেছেনÑ সেসব তথ্যও শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু জানাননি, চাকরিজীবীর সন্তান হয়েও কীভাবে বিদেশে লেখাপড়া করেছেন তাদের সন্তানরা। কারণ, শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া সারাজীবন সরকারি চাকরি করেছেন, অন্যদিকে শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিকী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাছাড়া বহু বছর ধরে তিনি অসুস্থ রয়েছেন। অর্থাৎ দৃশ্যমান কোনো আয় নেই তার। তা সত্ত্বেও এই দু’জনের সন্তানরা হার্ভার্ড এবং অক্সফোর্ডের মতো ‘বিশ্ববিখ্যাত’ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করারÑ এমনকি ‘ডাবল মাস্টার্স’ করার মতো বিপুল অর্থ পেলেন কোথায় এ ধরনের কোনো প্রশ্নেরও উত্তর ছিল না প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। বলা বাহুল্য, কথাগুলো তিনি কাকে শুনিয়েছেন এবং এর মধ্য দিয়ে ঠিক কার সন্তানদের সঙ্গে নিজেদের সন্তানদের তুলনা করেছেন তা বুঝতে সাধারণ মানুষেরও অসুবিধা হয়নি। অন্য একটি প্রসঙ্গেও রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ১৯৯১ সালে চাইলে তারাও নাকি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু তাদের কাছে নাকি ক্ষমতায় যাওয়াটাই ‘বড় কথা’ ছিল না! কথাগুলোর জবাব রয়েছে বিএনপির দুই এমপি রানু ও পাপিয়ার বক্তৃতার মধ্যে। সমর্থনের জন্য কারা জামায়াতের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলেন, কারা রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে দেনদরবার করেছিলেন এসব বিষয়ে সংবাদপত্রেও প্রচুর সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং প্রধানমন্ত্রী বললেই এসব তথ্য ‘অসত্য ও আজেবাজে’ হয়ে যাবে না।

প্রসঙ্গক্রমে এখানে কিছু ইঙ্গিতও দিয়ে রাখা দরকার। এমপি রানু ও পাপিয়াকে শুধু নয়, বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াকেও ‘চুপ-চুপ’ ও ‘ধর-ধর’ বলে বাধাগ্রস্ত করেছেন আওয়ামী এমপিরা। খালেদা জিয়ার সুলিখিত ভাষণটি ঠাসা ছিল প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য ও পরিসংখ্যানে। কিন্তু এত লেখাপড়া করনেওয়ালাদের মা-খালা ও মামা-চাচাদের মুখেও ‘থিসিস’ বা ‘অভিসন্দর্ভ’ ধরনের শব্দ শোনা যায়নি। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়া নাকি কাউকে দিয়ে ‘উপন্যাস’ লিখিয়ে এনেছেন এবং সেটাই পড়ে শুনিয়েছেন! ‘নিষিদ্ধ পল্লী’ ও ‘উপন্যাস’ জাতীয় কথা শোনানোর পাশাপাশি নেতিবাচক ও অভদ্রজনোচিত আচরণ ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেও বর্তমান সংসদের সম্ভাবনা সম্পর্কে যে কোনো ধারণা করা যেতেই পারে। তা সত্ত্বেও অপেক্ষা করা এবং দেখা দরকার, আওয়ামী লীগ ও তার জোটের সঙ্গীরা গণতন্ত্রসম্মত পথে ফিরে আসবেন নাকি বারবার তারা এমপি রানু ও পাপিয়ার ঠ্যালার সামনেই পড়তে থাকবেন!

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com